পেঁচা, ইদুঁর ও গাব গাছের কথকতা
তিন্দুক, পেচক ও মূষিকের কথকতা ভূমিকা তিন্দুক শব্দের অর্থ ঘনছায়া, গাব গাছের সংস্কৃত নাম। কৃষ্ণবর্ণের ছালদ্বারা আবৃত শাখা-পশাখা গাঢ় সবুজ পল্লবে ভরপুর চিরসবুজ বহুবর্ষজীবী গাবগাছ একটি অপ্রধান ফল হিসেবে বাংলাদেশে সর্বত্র দেখা যেত। দূর থেকে দেখলে গাছটিকে মনে হয় ফুটানো একটি বড় ছাতা, যেন “অনেক পাতার ঘনিষ্টতায় একটি প্রগাঢ় নিকুঞ্জ। গাবগাছ “এমবেনেসি” পরিবারভুক্ত, বৈজ্ঞানিক নাম “ডায়সপইরস পিরিগরিনা, “তমাল ও পুষ্পিত নাগেশ্বর একই জেনাসভুক্ত। গাছের ফল সবুজ অবস্থায় চ‚র্ণ করে আসবাবপ্রত, মাছ ধরার জাল প্রভৃতি রঙ করার কাজে ব্যবহৃত হয়। হলুদবর্ণের পাকা ফলের ভিতরের ৬-৮টি আঠালো বীজ মিষ্টি ও সুস্বাদু। কাঠ ধূসর বর্ণের, অত্যন্ত ভারী, তাই ঢেঁকি তৈরির একমাত্র উপাদান। গাছের ছাল, ফল ও বীজ বিভিন্ন রোগের ওষুধরূপে ব্যবহৃত হয়। এর আছে উপযোগিতা ও ভেষজ গুণ। তবু গাবগাছে “ভ‚তের বাসা” এই কুসংস্কারের কারণ এর ঘন পাতার ছায়া যেখানে দিনের বেলায়ও দৃষ্টি পৌছায় না। তাই দিনের বেলায় এর অন্ধকারে লুকিয়ে থাকে পেঁচা ও অন্যান্য নিশাচর উপকারী পাখি। শ্যাওড়া গাছের ঝোপও প্রায় একই প্রকৃতির। ভ‚তের ভয়ে, পেটের দায়ে আর অজ্ঞানতা...